About Shebapolly

সেবাপল্লীভাদুঘর


মানব জাতির সার্বিক কল্যাণই সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার সমগ্র সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য । কিন্তু এর বাস্তব রুপ দেয়ার দায়িত্ব মানুষের নিজের। একমাত্র পার্থিব ও আধ্যাত্বিক জীবনের প্রতি ভারসাম্যপূর্ন দৃষ্টি ভঙ্গি ও অঙ্গিকারের মাধ্যমেই মানুষ তাহা অর্জন করতে সক্ষম। এরই একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা স্বরুপ বাংলাদেশ সার্বিক সামাজিক উন্নয়ন সংস্থাটির জন্ম নেয়। ইহা বস্তুতঃ ‘আল্লাহর একত্ববাদ ’ বা ‘তৌহিদ’ এর উপর ভিত্তি করে ‘ বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য’ এই নীতি ভিত্তিক একটি সভ্যতা গড়ে তোলার একটি আন্দোলন। এর বাস্তবায়নের মাধ্যম হবে মানব সেবা ও নৈতিকতার উন্নয়ন ও প্রসার। এই প্রত্যাসায়

প্রথমতঃ সেবাপল্লী নামে একটি মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে লাভবিহীন এক দাতবৗ নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবা সরাসরি প্রধান করা হবে, এবং
দ্বীতিয়তঃ ধর্মভিত্তিক বুদ্ধিচর্চা ফোরাম নামে একটি বুদ্ধিবৃত্তি প্রকল্পর প্রতিষ্ঠর মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ও প্রসার করা হবে।
সেবাপল্লী – ভাদুঘরবাংলাদেশ সার্বিক সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার অধিনে পৃষ্টপোশকতায় প্রথম স্থপিত এমনই একটি লাভবিহীন মূলতঃ দাতব্য ভিত্তিক বহুমুখী সেবা প্রদান কেন্দ্র। ‘মানব সেবা ধর্ম সেবা, সেবা ধর্মের প্রাণ’ । এই মর্মে সচেতনাতা সৃষ্টি করে জনগনকে মানব সেবায় উদ্বোদ্ধ করাই এর অন্তর্নিহিত ও মুখ্য উদ্দেশ্য।

প্রতিষ্ঠাতাঃ সেবাপল্লী- ভাদুঘর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় ভাদুঘর নিবাসী মরহুম আলী আজ্জম মোল্লা ও মরহুমা হালিমা খাতুনের পরিবারের সমাজ সেবা প্রয়াসে নিয়োজিত মূলত একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। পল্লী অঞ্চলে সেবা প্রদান মূলত ইহার প্রধান লক্ষ্য বলে ইহার নাম সেবাপল্লী। ইহা তাঁদেরই সন্তান প্রফেসর ডক্টর রফিকুল ইছলাম মোল্লার উদ্যোগে ও নেতৃত্বে ২০০২ সালে গঠিত বাংলাদেশ সার্বিক সামাজিক উন্নয়ন সংঘের মাঠ পর্যায়ে বাস্তবমূখী কার্যকর প্রকল্পের (Action project) আওতায় প্রতিষ্ঠিত একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান (Social enterprise)। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বহুমূখী সেবা প্রদান ইহার লক্ষ্য।
ফেব্রুয়ারী ২০০১ সালে ইহার নির্মান কাজ আরম্ভ হয়। মোট ৯ শতক জমির উপর ইহা প্রতিষ্ঠত। এর মধ্যে তাহার ভাই জনাব মোমেনুল ইসলাম মোল্লা এবং উনার পতিœ বেগম শাহিন আক্তার ৬ শতক জমি দান করেন। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে তাহার পুত্র জনাব ছাইফুল ইছলাম মোল্লা ১০,০০০ মার্কিন ডলার ও কন্যা বেগম তাসলিমা রহমান এবং উনার স্বামী প্রফেসর খন্দকার মিজানুর রহমান ১০০০ মার্কিন ডলার এবং শ্যালক ডাঃ মইনউদ্দিন খন্দকার ৩৪,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
প্রদানকৃত সেবা সমূহঃ সমাজের দুর্বল ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠির ক্ষমতায়ন ও মুক্তির লক্ষ্যে,‘সেবা নেবেন প্রয়োজন যত দাম দেবেন ক্ষমতা মত’ এই লাভ বিহীন ও দাতব্য নীতির ভিত্তিতে এখানে নিম্ন বর্ণিত ৬ প্রকার আধুনিক ও মান সম্মত সামাজিক সেবা প্রধান করা হয়ঃ
১। স্বাস্থ্য সেবাঃ মূলনীতি- সর্বাগ্যে স্বাস্থ, সবার জন্য স্বাস্থ।
২। শিক্ষা ও ধমীয় সেবাঃ মূলনীতি- প্রাথমিক শিক্ষা ও ধর্মকর্মে সকলের অধিকার।
৩। কর্মসংস্থান সেবাঃ মূলনীতি – সকলের কর্ম ও জীবিকার অধিকার অধিকার।
৪। আইনি সেবাঃ মূলনীতি – সকলের ন্যায় বিচারের অধিকার
৫। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সেবাঃ মূলনীতি- সকলের নিজস্ব সাংস্কৃতিক চর্চা করা এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপন করার অধিকার।
৬। কৃষি সেবাঃ মূলনীতি – আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সকল কৃষকের অধিকার।
এরই জন্য একানে হাস পাতাল , নার্সিং স্কুল, কর্মসৃষ্টি কেন্দ্র, সেবা কেন্দ্র ও সেবা ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আলী আজম মোল্লা হাসপাতাল

এই হাসপাতালের নাম করণ করা হয়েছে প্রফেসর মোল্লার পিতা মরহুম মৌলভী আলী আজম মোল্লার নামে। বর্তমানে এটি একটি ২৫ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল । ইহাকে ১০০ শয্যার হাসপতালে উন্নিত করার পরিকল্পনা রযেছে।
কর্মনীতি ও কৌশলঃ  স্বাস্থসেবা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং এরই প্রেক্ষিতে ‘সর্বাগ্যে স্বাস্থ, সবার জন্য স্বাস্থ’ এই হাসপাতালেনর কর্মনীতি।

  • আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীরকে অগ্রাধিকার দানের ভিত্তিতে সমাজে আধুনিক ও উন্নত মানের সেবা প্রদান ।
  • মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্ব প্রদান।
  • দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগনের চিকিৎসার সুবির্ধাতে ‘রোগীর কাছে হাসপাতাল’ এই নীতির ভিত্তিতে সাপ্তাহিক ভ্রাম্যমান স্বাস্থ্য সেবা ইউনিটের প্রবর্তন।

হালিমা নার্সিং স্কুল

এই নার্সিং বিদ্যালয়টি প্রফেসর মোল্লার মাতা মরহুমা হালিমা খাতুনের নামে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এটি ১২ জন ছাত্রি সংখ্যা বিশিষ্ট আবাসিক ভিত্তিক বিদ্যালয়। ভবিষ্যতে ছাত্রী ধারন ক্ষমতা ২৪ জন পর্যন্ত বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
লক্ষ্য ও কৌশলঃ সমাজের সুযোগ ও সুবিধা হতে বঞ্চিত নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যামে তাদেরকে দক্ষ নার্স, ধাত্রী তথা স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে গড়ে তোলা , যেন তারা পল্লি এলাকায় কাজ করতে পারেন এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবায় বিশেষ অবদান রাখতে পারেন।
এখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অধিনে ১৮ মাসের জুনিয়র নার্সিং ও ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক সার্টিফিকেট কোর্স পড়ানো হয় । এর পর এরো ৬মাস চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষন গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীগন সাধারণ রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করে পেশাদা নার্স ,ধাত্রী এবং স্বাস্থ্য সহকারী হিসাবে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করতে পারেন ।
ভর্তিও নূন্যতম যোগ্যতা এস. এস. সি পাশ। দুর্বল ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং ১৯-২৫ বছর বয়সীদের অগাধীকার দেয়া হবে।

কর্মসৃষ্টি কেন্দ্র

এটি সমাজে দরিদ্রতম স্তরের জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করে একটি বিবিধ কারিগরী সেবা ও কর্মকান্ডের ব্যাবস্থা ।
লক্ষ্য ও কৌশলঃ পল্লী অঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকরা এর মূল লক্ষ্য। কারিগরী প্রশিক্ষন, ক্ষুদ্র ঋণ ,ইত্যাদি সহায়তা প্রধানের মাধ্যমে স্বকর্মর্সস্থানের সুযোগ তৈরী করা এবং সল্প আয়ের লোকদের মাঝে সঞ্চয়ের প্রবনতাকে উৎসাহিত করা এর উদ্দেশ্য।
ক্রিয়া কৌশলঃ

  • ভূমিহীন ও চরম দরিদ্র পরিবারের নারীদের জন্য সেলাই এ হস্তশিল্প প্রকল্প। এখানে বর্তমানে ২০ জন কর্মী নিয়ে কাজ চলছে। ভবিষ্যতে ২০০ জন কর্মীর জন্য সুযোগ তৈরী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • ইসলামী মুদারাবা নীতিতে লাভের অংশীদারিত্বেও ভিত্তিতে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে গবাদি পশু পালনের জন্য সরবরাহ করা হয় । এতে ৭৫% লাভ কৃষকরা পায় । এই পযর্ন্ত ১৫ জন কৃষক এই সুবিধা ভোগ করেছেন।

ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন ধরনের অর্থকরী প্রকল্প এতে অন্তর্ভূক্ত হবে।

সেবা কেন্দ্র

আইনি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাবিষয়ক, কৃষিবিষয়ক ও অন্যান্য সেবা প্রদানে এই কেন্দ্রটি নিয়োজিত
লক্ষ্য ও কৌশলঃ সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেনীর স্বার্থ সংরক্ষনের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এর প্রধান লক্ষ্য । এখালে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে।
আইলি সহায়তা বিভাগঃ অবসর প্রাপ্ত বিচারক এবং বিশিষ্ট আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত এই বিভাগ । ব্যায়বহুল বিচার ব্যাবস্থা ও আদালতে মামলা মোকদ্দমার দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে এই বিভাগের আইনজীবিরা সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে।
যদি সালিস অমীমাংসিত থেকে যায়, তাহলে আদালতে মামলা করার জন্য দরিদ্র ও দুর্বল জনগন এই কেন্দ্র থেকে আর্থিক ও আইনী সহায়তা পেতে পারেন।
কৃষি সেবা বিভাগঃ এতে কৃষি বিষয়ে পরামর্শদাতা হিসেবে বিশেষজ্ঞ থাকবেন । স্থানীয় কৃষকদের প্রতিনিধি হিসাবে এই কেন্দ্রটি স্থানীয় কৃষি দপ্তরের সাথে কাজ করবে।এখানে পাওয়ার টিলার পাম্প, ইত্যাদি যাবতীয় প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষকদের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য থাকবে।
ক্ষুদ্র ঋণ সেবা বিভাগঃ জীবন যাপনের স¦াভাবিক প্রয়োজনে ঋণ লাভ একটি মানব অধিকার। এই নীতিকে স্বীকার করে ইসলামী ‘মুদারাবা’ নীতি অর্থাৎ লাবের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দরিদ্র লোকদেরকে উৎপাদন ঋণ প্রদান করা হবে। ইহা‘পড়শী ঋণ পরিকল্পনা’ মডেল নামে পরিচিত হবে। এতে অপেক্ষাকৃত ধনি পরিবার গুলোকে দরিদ্র পরিবারবে ঋণ দিতে উৎসাহিত করা হবে। সেবা পল্লী ঋণ দাতার পূর্ণ আসল টাকা যে কোন সময় ফেরৎ পাবার নিশ্চয়তা দান করবে । ফলে সমাজের ক্ষুদ্র সঞ্চয় সমূহ অলস ভাবে পরে না থেকে উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত হবে।
সামাজিক /সাংস্কৃতিক সেবা বিভাগঃ এই বিভাগ বিভিন্ন শিক্ষা মূলক , সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি এবং সমাজ কল্যাণ মূলক কর্মকান্ড সমূহের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদাণ করা নিয়ে কাজ করবে।

সেবা ক্লাব

এটি ১০ বছরের উর্দ্ধে বিভিন্ন বয়সের শিশু-কিশোর ও তরুন তরুণীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সংগঠন, যাহা ৬টি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে ৬ শ্রেণির ক্যাডার তৈরী করবে । এই সংগঠনের আদর্শ ‘মানব সেবা ধর্ম সেবা’। ক্লাব সদস্যদেরকে সেবা ক্যাডেট বলা হবে। ব্যাডেটদেও ও জনগণের মধ্যে মানব সেবাই যে ধর্মেও ধূল বাণী ,এই সচেতনতা গড়ে তোলাই এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য । মানব সেবা ধর্ম সেবা -এ্টাই এর মূল আদর্শ ধ্বনি ও প্রচারধ্বনি। এটি তাই বাংলাদেশ সার্বিক সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার মূলতঃ স্নায়ুকেন্দ্র হিসাবে কাজ করবে। সকলকে নীতিবান , ধর্মনিষ্ঠ, সমাজসেবী ও মানবসেবার আদর্শ বলীয়ান সুনাগরিক হিসেবে তৈরী করাই এর একমাত্র লক্ষ্য।

মূলনীতিঃ সেবা ক্যাডেটদেরকে নিম্নলিখিত 6-FH মূলনীতি সমূহের ভিত্তিতে শারীরিক মানসিকভাবে গড়ে তোলা হবে।

  • বিশ্বাস (Faith): সর্বশক্তিমান স্রষ্টার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস,ইবাদত ও ধর্মকর্মের অনুসরনের প্রতি শ্রদ্ধা।
  • ন্যায় পরায়নতা (Fairness): ন্যায় বিচার ও নৈতিকতার প্রতি শ্রদ্ধা
  • সদাসয়তা (Heart):  মানুষসহ সকল সৃষ্টজীবের প্রতি দয়া ও সহানভুতি।
  • বুদ্ধিমত্বার বিকাশ (Head):  দক্ষতা ও বুদ্ধিবৃত্তির উন্নয়ন।
  • কর্মপরায়নতা (Health): পরিশ্রমী ও শ্রমের প্রতি মর্যাদা।
  • সুস্থতা  (): সুস্থতা রক্ষা
  • কৌশলঃ স্কাউটিং পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপরোক্ত গুনাবলী অর্জনের জন্য এখানে সার্বক্ষনিক কার্যক্রম থাকবে । এ ছাড়া ইংরেজী ভাষা ও কম্পিউটারের উপর আলাদা প্রশিক্ষন দেয়া হবে।

ইহার কুচকাওয়াজ ও মার্চিং গানঃ ‘ধর্মে শক্তি, ধর্মে মুক্তি, ধর্ম মোদের ধ্যান। সেবায় শান্তি, সেবাই তৃপ্তি, সেবা ধর্মের প্রাণ।
প্রচারবাণীঃ

  1. মানব সেবাই ধর্ম সেবা’।
  2. মানব সেবা ধর্ম সেবা,সেবা ধর্মের প্রাণ।

সদস্য শ্রেণী সমূহঃ বয়স, অভিজ্ঞতা ও অর্জনের ভিত্তিতে ক্যাডেটরা নি¤েœাক্ত ৬টি শ্রেণীতে বিভক্ত হবে।

  • শিকড়ঃ এরা প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যাডেট ধর্ম ও সততাকে জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করাই এদের অর্জন।
  • সুজনঃ শিকড় পর্যায় থেকে পরবর্তীতে সুশীল আচরনের মাধ্যমে সমাজের সকলের প্রীয়ভাজনে পরিনত হয়ে তাহারা এই শ্রেণিতে উন্নিত হবে।সমাজের সকলের প্রিয়ভাজন হওয়াই এদের বিশেষ অর্জন।
  • সাথীঃ সজন পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে সমাজ সেবা মূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে এরা সমাজের মানুষের বিশ্বস্ত ও শিক্ষিত সাথী বলে পরিণত হবেন। সকলের বিশ্বস্ততা লাভই এদের বিশেষ অর্জন।
  • শিখাঃ ‘সাথী’ থেকে পর্যায়্ক্রমে বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের আয়োজন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এরা সমাজের আলো বা ভবিষ্যৎ হিসেবে পরিগনিত হবেন। সমাজের গৌরব ও ভবিস্যৎ হিসেবে সুনামলাভই এদের বিশেষ অর্জন।
  • শক্তিঃ উচু স্তরের নেতৃত্বগুণ,বুদ্ধিবৃত্তিকও সমাজসেবা মূলক কর্মকান্ডে নেতৃত্বদানকারী এই ক্যাডেটরা হবে সমাজের শক্তি,উন্নয়ন ও প্রগতির ভিত্তি।সমাজের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার নির্ভরশীল কান্ডারী ও দিশারী হিসাবে বিবেচিত হওয়াই এদের অর্জন।
  • সেবকঃ এরা সর্বোচ্চ শ্রেণিতে উন্নিত সদস্য, যারা ইতিমধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সমাজ সেবা মূলক কাজে তাৎপর্যপূণ অবদান রেখেছেন এবং সমাজ সেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

আশা করা যায় যে, এই ক্লাবের সদস্যরা ধার্মিক ও নীতিবান আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবেন এবং সমাজকে ন্যায়,শক্তি, বিশ্বাস ও প্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সার্থক আন্দোলন গড়ে তোলতে সক্ষম হবেন। বস্তুতঃ তখনই ঘটবে এই সংঘটনের সার্বিক সামাজ উন্নয়নের আন্দোলনের সার্থকতার প্রতিফলন।